News

বড় চমক থাকছে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে

January 21, 2019

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক আজ সোমবার বসছে। টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হচ্ছেন দলটির সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১৯ এর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে আজকের মন্ত্রিসভায়।

এছাড়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়াসহ আরও পাঁচটি বিষয় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। উল্লিখিত বিষয়গুলো মন্ত্রিসভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশের সারসংক্ষেপে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার, মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বদিন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও ইভিএম সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তির বিধান সংযোজন করে অধ্যাদেশ করা হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকর করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংবিধানের দেয়া ক্ষমতাবলে ৩১ অক্টোবর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০১৮ প্রণয়ন করে তা জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(১)-এর অধীন প্রণীত ও জারি করা অধ্যাদেশ ওই অনুচ্ছেদের (২)-এর বিধান অনুযায়ী জারি হওয়ার পর জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। উল্লিখিত আরপিও সংশোধনী অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করতে হলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস হতে হবে।

অন্যথায় অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা হারাবে। এ কারণে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের আগে অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজকের বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

এছাড়া সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। আর এ ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জানাবেন সংসদ সদস্যরা। প্রচলিত নিয়মে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়। এরপরই তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। সেই ভাষণ অনুমোদনের জন্য আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

১৮ পৃষ্ঠার খসড়া ভাষণে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নেয়া পদক্ষেপ ও সাফল্য, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে বিভিন্ন খাতে নেয়া কর্মসূচির রূপরেখা, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন, দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি, বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত উল্লেখ থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এছাড়াও বৈঠকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ-সংশোধন) আইনের খসড়া, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আইন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ও বিধিমালার আলোকে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।