ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী বহু মানুষের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় এমন একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই সীমান্ত অতিক্রমে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে ধরা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী এলাকায় দীর্ঘ সময় অনিশ্চিত অবস্থায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। এতে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে সীমান্ত দিয়ে অননুমোদিতভাবে লোকজন প্রবেশ করানোর একাধিক প্রচেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ সীমান্ত এলাকায় আটকা পড়েন। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় নিয়ম অনুসরণ ছাড়া কাউকে ফেরত নেওয়া হবে না।
মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, যেসব ব্যক্তিকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করছেন এবং তাদের কাছে পরিচয়পত্রও রয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা প্রশাসনিক নজরদারির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের বেলায় কিছু মানুষকে সীমান্তের কাছে এনে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয়দের সতর্কতার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কিছু এলাকায় বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাই, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে অনেক পরিবার নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, কোনো ব্যক্তিকে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে জোরপূর্বক অন্য দেশে পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থাটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রচলিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। যথাযথ যাচাই ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে কাউকে পাঠানো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে উভয় দেশের উচিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
এই বিভাগের আরও খবর
ট্রেন্ডিং
সর্বাধিক পঠিত
- সাতক্ষীরা জেলার দুজন সাংসদকে মন্ত্রী দাবি
- বড় চমক থাকছে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে
- চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্কের পরিমাণ বৃদ্ধি
- একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ৩০ জানুয়ারি
- ওয়ালটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডোর হয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি
- ঘুরে আসুন সাদা পাথরের দেশে
- শেখ হাসিনার যত রেকর্ড
- ঘুরে আসুন সিকিম
- অ্যাশ-ম্যাশের স্বাগত খুনসুটি
- ভোটারদের সঙ্গে সালমানের শুভেচ্ছা বিনিময়