News

ঘুরে আসুন সাদা পাথরের দেশে

October 03, 2019

সিলেটের খরস্রোতা এক নদীর নাম ধলাই। ধলাই নদীর মনকাড়া রূপ, সবুজ পাহাড় বন্দী এলাকা জুড়ে অজস্র অগুনতি সাদা পাথর, আকাশের নীল মেঘ তার ছায়া রেখে যায় পাথরে জমে থাকা শুভ্র জলে। দূরের পাহাড়গুলোর উপর মেঘের ছড়াছড়ি, সাথে একটা ঝর্ণার গড়িয়ে পড়া। নদীর টলমলে হাঁটু পানির তলায় বালুর গালিচা। চিক চিক করা রূপালী বালু আর ছোট বড় সাদা অসংখ্য পাথর মিলে এ যেন এক পাথরের রাজ্য। প্রকৃতির খেয়ালে গড়া নিখুঁত ছবির মত সুন্দর এই জায়গাটির নাম ভোলাগঞ্জ। সাদা সাদা পাথর ছড়ানো এই জায়গাটি দেখতে অনেকটাই  বিছানাকান্দির মতো। এ যেন সাদা পাথরের আরেক বিছানাকান্দি। জাফলং, বিছানাকান্দিতে তো অনেকেই গিয়েছেন, এবার ঘুরে আসুন সিলেটের অনিন্দ্য সুন্দর ভোলাগঞ্জ থেকে। 

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের ভোলাগঞ্জ দেশের বৃহত্তম পাথরকোয়ারী অঞ্চল। সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার।  অসাধারণ প্রাকৃতিক শোভার স্থান এই ভোলাগঞ্জ। সাথে বাড়তি পাওনা হিসেবে পাবেন ধোলাই নদীর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। চারদিকে শুধু সাদারঙা পাথর আর পাথর। এতো সাদা পাথর হয়ত জীবনে কখনোই দেখেননি। পাথর তোলার প্রচুর নৌকা দেখতে পাবেন এখানে। নির্জন নৈসর্গিক এই জায়গাটিতে সামনে সবুজ পাহাড়ের সারি, পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া প্রচণ্ড স্রোতের স্বচ্ছ শীতল জল। এই জলে স্নান করে সকল ক্লান্তি-অবসাদ নিমিষেই দূর করতে পারবেন। মন-প্রাণ হয়ে উঠবে সতেজ ও প্রাণবন্ত। পানি আর সাদা পাথরের জাদুকরী শীতল স্পর্শ আপনাকে নিঃসন্দেহে বিমোহিত করবে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বন্যার তোড়ে নদী ও ছড়া দিয়ে প্রচুর পাথর ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে জমা হয়। যা সারা বছর উত্তোলন করে থাকেন শ্রমিকরা। এই পাথুরে রাজ্য যেমন চমৎকার তেমনিই উপভোগ্য এখানকার পাথর উত্তোলনের দৃশ্য।

ভোলাগঞ্জের আর একটি আকর্ষণীয় স্থান হলো ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে। পাথর কোয়ারী, পাহাড়ি মনোলোভা দৃশ্য অবলোকনের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। ১৮৬৪ সালে সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্প। মজার ব্যাপার হলো, এলাকাটি দেখতে অনেকটা ব-দ্বীপের মতো। ধলাই নদী বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে প্ল্যান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে। রোপওয়ের এরিয়া প্রায় একশ একর। আর এ কারণেই স্থানটি পর্যটকদের কাছে এত আকর্ষণীয়।

এদিকে পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ে। ধলাই নদীর উজানে এ রাজ্যের অবস্থান। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য  ভীষণ রকম মনোরম। ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় অবস্থান করে পাহাড় টিলার মনোরম দৃশ্যাবলী দেখা যায়। সবুজে মোড়া পাহাড়ি এই সৌন্দর্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। 
এছাড়া ভোলাগঞ্জে রয়েছে একটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। এ স্টেশন দিয়ে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চলে। এ স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা প্রধানত চুনাপাথর ও কয়লা আমদানি করে থাকেন। চুনাপাথর নিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্তের জিরো লাইনে এ কাস্টমস স্টেশনের অবস্থান। চাইলে এখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

কখন যাবেন ঘুরতে:  
মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় যাবার উপযুক্ত সময়।

যাওয়ার উপায়:
ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ, গাবতলি ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এ পথে গ্রিন লাইন পরিবহন, এনা পরিবহন, সৌদিয়া এস আলম পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস এর এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া পড়বে ৪০০ থেকে ১১০০ টাকা।
এছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকেও আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস এ চড়ে যেতে পারেন সিলেটে। সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। এছাড়া  বাই এয়ারেও সিলেট যেতে পারেন। 

সিলেট শহর থেকে ভোলাগঞ্জ যাবার কোনো বাস বা লেগুনা নেই। যাতায়াতের একমাত্র বাহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, জনপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা। রাস্তা এত খারাপ যে বর্ণনার অযোগ্য। সে ক্ষেত্রে নদীপথে যাওয়াই ভালো। এই পথে জনপ্রতি খরচ ২০০ টাকা। সংখ্যায় বেশি হলে ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে যেতে পারেন। ভাড়া নেবে ছয় হাজার টাকা যাওয়া-আসা। যাতায়াত সময় সড়কপথের মতোই নদীপথেও তিন ঘণ্টার মতো। দিনে গিয়ে দিনেই ফেরত আসা যাবে। মনে রাখবেন ভোলাগঞ্জ থেকে সিলেট বাদাঘাটের শেষ ট্রলার ছেড়ে আসে বিকেল চারটায়। সে ক্ষেত্রে সময়ের ব্যাপারটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। ট্রলার মিস করলে সড়কপথ ভরসা, সে ক্ষেত্রে দুর্বিষহ যন্ত্রণা পোহাতে হবে। আর নদীপথে যাতায়াতে একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সম্ভব হলে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখবেন।

থাকবেন কোথায়:
জেলা পরিষদের একটি রেস্ট হাউজ আছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে। থাকতে হলে আপনাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া ভোলাগঞ্জ বা কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় থাকার তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। ভোলাগঞ্জ ভ্রমণ শেষে আপনি সিলেটে এসে অবস্থান করতে পারবেন